ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলার কসবা-আখাউড়া-বিজয়নগর উপজেলার একমাত্র সংযোগ সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২৭ কিলোমিটার সড়কের একেবারেই বেহাল দশা। বিজয়নগর উপজেলার কিছু অংশে সড়ক যেন পুকুরে পরিণত হয়েছে। আখাউড়ায় সেতু ভেঙে যাওয়ায় ঘুরতে হয় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার।
গত কয়দিন তিন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে । ৪৪ কিলোমিটারের এ সড়ক ঘুরতে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টার মতো। অথচ সড়কটি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগার কথা। সড়কে চলতে ভাড়াও গুনতে হয় প্রায় দ্বিগুণ।
বিজয়নগর থেকে আখাউড়া আসার পথে কথা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মোক্তার হোসেন শেখ ফরিদ ও আল আমিনের সঙ্গে। তিনিনারা বলেন ইডা ত সড়ক না। ইডা একটা যুদ্ধের ময়দান। যুদ্ধে জুমুন সমস্যা তাহে এহানেও এমুন সমস্যার শেষ নাই।
আগে এমনে সারা দিনে পাঁচবার-ছয়বার আইতাম-জাইতাম পারতাম। অহন দুইবার, তিনবার আওন-জাওন কষ্ট অ। গাড়ি চালায়া বাইত গেলে সইল ব্যাথা করে।
উল্লেখিত সড়কটির শুরু কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা থেকে। চান্দুরা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার।
অন্যদিকে আখাউড়া থেকে কসবা দূরত্ব প্রায় ১৭ কিলোমিটার। সড়কটি মাঝে মাঝে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার হয়। বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড এলাকায় যানজট দেখা দিলে ওই সড়কটি ব্যবহার করা হয় বলে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। বিজয়নগর উপজেলার মানুষ জেলা সদরে যেতেও আখাউড়া-চান্দুরা সড়ক ব্যবহার করতে হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিজয়নগর উপজেলার আমতলী বাজার পার হয়ে চম্পকনগর পর্যন্ত সড়কের অবস্থা একেবারেই নাজুক। পুরো সড়কজুড়েই বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে ট্রাকসহ বিভিন্ন যান আটকে থাকতে দেখা যায়। সড়কের ওই অংশে কোথাও পিচের দেখা নেই। চম্পকনগর থেকে সিংগারবিল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানেও রয়েছে গর্ত।
সিংগারবিলের পরেই আখাউড়া উপজেলা শুরু। আখাউড়া উপজেলা সদর পর্যন্ত ও পরবর্তীতে কসব অভিমুকে গঙ্গাসাগর এলাকা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের বেশ ভালো অবস্থা। গঙ্গাসাগর পার হয়েই সড়কের বেহাল অবস্থা চোখে পড়ে। মনিয়ন্দ এলাকায় বেশ কয়েকমাস ধরে একটি ব্রিজ দেবে গিয়ে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ আছে।
এই সেতুটির কারণে প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার অংশ ঘুরে চলাচল করতে হয়। ঘুরে গিয়ে যে অংশ দিয়ে সড়কে উঠতে হয় সেখান থেকেও সড়কের বেহাল দশা। অন্তত ছয়-সাত কিলোমিটার সড়কে পিচের দেখা পাওয়া যায়নি।
এদিকে ভাঙা সড়কের কারণে ভাড়াও বেড়েছে। চান্দুরা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ভাড়া আগে ৮০ টাকা হলেও এখন ১২০ থেকে ১৫০টাকা দিতে হয়। আখাউড়া থেকে কসবার ভাড়া ৬০ টাকা হলেও এখন ৯০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। চলাচলের সময়ও প্রায় দ্বিগুণ লাগে।
চম্পকনগর এলাকায় কথা হয় চালক মো. আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘চান্দুরা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের গাড়ি চালাতে যেমন সমস্যা তেমনিভাবে যাত্রীদেরও অনেক সমস্যা হয়। আমাদের দাবি এটা দ্রুত মেরামত করা হোক।’
মির্জাপুর উপজেলা সদরে কথা হয় পত্তন স্কুলের শিক্ষক জিয়াউর রহমান চৌধুরী সাথে তিনি বলেন এক কথায় বলতে গেলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী। একটা রাস্তা এমন হতে পারে না। আমরা দ্রুত রাস্তাটির মেরামত করার দাবি জানাই। আমতলী বাজারের
হারুন মিয়া নামের স্থানীয় বিকাশ ব্যবসায়ী বলেন এ রাস্তা দিয়ে চলতে খুব কষ্ট। চম্পকনগর থেকে আখাউড়া পর্যন্ত তো খুবই খারাপ অবস্থা। রাস্তাটি খারাপ হওয়ার কারণে গাড়ির ভাড়াও অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া সময়ও বেশি লাগে। ঝাকড়ানীর কারণে গাড়িতে উঠার পড়ে মাথায় ও শরীরে অনেক ব্যথা পেতে হয়।
আখাউড়ার মনিয়ন্দ এলাকায় ভাঙা সেতুর কাছে কথা হয় যাত্রী রুশেল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সেতু ভাঙা, সড়কের অবস্থা খারাপ। কসবা থেকে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এতদিন একটা সেতু ভাঙা থাকার পরও কেন ঠিক করা হচ্ছে না বুঝতে পারছি না।
অটোরিকশা চালক নুরুল্লাহ বলেন রাস্তার কি অবস্থা সেটা আপনাকে বুঝাতে পারব না। আপনাদের দয়া হলে রাস্তাটা ঘুরে দেখে আমাদের জন্য কিছু করেন। এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ৫০০ টাকা ভাড়া পেলে ৩০০ টাকার কাজ করাতে হয়। ভাঙা রাস্তার কারণে আমাদের খুব বেশি কষ্ট হচ্ছে। সেতুটি ভাঙা থাকায় আমাদেরকে আরো বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম সুমন সাংবাদিকদের জানান, ভেঙে যাওয়া সেতুর জায়গায় নতুন সেতু করতে পাঁচ কোটি টাকার ইস্টিমেট করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে এক মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজয়নগর এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিকুর রহমান ভূইয়া বলেন সড়কটি মেরামতে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। একটি উপজেলার সভায় পাস করে ঢাকায় পাঠানো হবে। সব মিলিয়ে সড়কের কাজ ধরতে প্রায় তিন মাস সময় লাগবে।