সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বিয়ের প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ জালালের বিরুদ্ধে  স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠির পরও ফের শোন-অ্যারেস্ট শাহেদ দুর্নীতিতে ওস্তাদ ওয়াসার হারুন অর রশিদ বায়রা সদস্য কল্যাণ পরিষদের সদস্য সম্মাননা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত গণপূর্তের দুর্নীতিবাজ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেনের দুর্নিতির গল্প আওয়ামীলীগ থেকে রাতারাতি বিএনপি নেতা বনে যাওয়া আব্দুল হক লালমনিরহাট ডিপ্লোমা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন অধ্যক্ষ রেজাউল করিম হোসাফ পাওয়ারের ব্যাপক অর্থ কেলেঙ্কারি

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেনের দুর্নিতির গল্প

আদিত্য রহমান
আপডেট : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন দেখিয়েছেন কিভাবে ক্ষমতার ব্যবহার করতে হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, জাতীয় সংসদের একাধিক পাওয়ার ফুল নেতা ও নেতার পিএসকে কাজে লাগিয়ে তিনি একই ডিভিশনে কর্মরত প্রায় পাঁচ বছর। থেকে নিজের ইচ্ছেমতো ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া থেকে শুরু করে নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতে নিয়েছেন।

নিজের ভাই ও শ্যালককে ঠিকাদারীর লাইসেন্স বানিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের শত’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকারি চাকুরিবিধি অনুযায়ী যেখানে তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম নেই সেখানে দিব্যি পাঁচ বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। সারা দেশে গণপূর্তের যেখানে কোনো প্রকল্প নেই সেখানে সংসদে একের পর এক প্রকল্পের উপরি কামাইয়ের লোভ সংবরণ করতে পারছেন না মোয়াজ্জেম হোসেন। আর এখানে তার অধীনেই ঠিকাদারী কাজ করেন তার আপন ভাই মনোয়ার হোসেন। যে কাজগুলো সবচে’ লোভনীয় অথবা যা না করেই বিল তোলা যায় তেমন কাজগুলোই করাচ্ছেন তার ভাইকে দিয়ে।

জাতীয় সংসদের স্পিকারের পিএস কামাল বিল্লাহ ও চিফ হুইপের পিএস জিলানীকে ম্যানেজ করেই টিকে রইছেন তিনি। এখন তিনি ধরেছেন গণপূর্তমন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর পিএস হুমায়ুনকে। বিসিএস ১৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ও অযোগ্যতার কারনে প্রমোশন না হওয়া এই হুমায়ুনের বাড়ির পাশেই না-কি মোয়াজ্জেমের বাড়ি। আর তিনিই নিচ্ছেন তাকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব।

২৪তম বিসিএস এর প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন শেরেবাংলানগর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন ২০১৯ সালে। সে সময়ে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তাকে বদলি করা হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েই নিজ ভাইকে নিয়ে আসেন ঠিকাদারীতে। সে সময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রোকন উদ্দিনের সঙ্গে মিলে ভাই ও শ্যালকদের ঠিকাদারীদের কাজে লাগিয়ে প্রায় এক শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অনিয়মের কারনে সেই রোকন উদ্দিনের চাকরি চলে গেলেও এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ও চিফ হুইপের দপ্তরের সাপোর্ট পেয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠা মোয়াজ্জেম তার উপরস্থ ও অধীনস্থ কোনো কর্মকর্তাকেই পাত্তা দিচ্ছেন না। ইচ্ছেমতো কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। সংসদে কর্মরত দু’একজন সাংবাকিদকে ম্যানেজ করেই তার দুর্নীতি ধামাচাপা দিচ্ছেন। সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদকে নিয়মিত ‘নানা কিছু সাপ্লাই’ দিয়ে ম্যানেজ মাষ্টার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে বদলি হলেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন এই মোয়াজ্জেম। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিস্ট কিছু অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে তদন্তাধীন রয়েছে।

অবৈধভাবে জি কে শামীমকে ১০ কোটি টাকা বিল পরিশোধ করার বিষয়টি আবারও তদন্তে উঠে এসেছে। তাঁর লুটপাটের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হবে পরবর্তী প্রতিবেদনে।

Facebook Comments Box


এই ক্যাটাগরির আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর