চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া এলাকায় ভোরে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে নিহত দুইজনের মরদেহ দীর্ঘ সময় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঘটনার প্রায় ১০ ঘণ্টা পরও মরদেহ দুটি ওই ঘরের ভেতরেই ছিল। পুরো বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে বসতবাড়ির একটি কক্ষে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। এতে আরও অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরপরই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সদস্যরা। তদন্তকাজ শুরু করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি এবং র্যাব-এর বোম ডিসপোজাল ইউনিট।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বাড়ির লোকজনের পাশাপাশি বাইরে থেকে কারিগর এনে বোমা তৈরি করা হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ব্যবহারের উদ্দেশে এসব বোমা তৈরি করা হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণে নিহতদের দেহাবশেষ গুরুতরভাবে বিক্ষত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। আহতদের নিরাপত্তায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। সঙ্গে ছিলেন পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন।