টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ২২ বছর বয়সী এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গত ২ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইল আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। মামলার প্রধান আসামি মো. আরাফাত হোসেন। অন্য আসামিরা হলেন তার বাবা মো. ফরহাদ মোল্লা, মা সাজেদা বেগম, ভাই অপু মোল্লা এবং লাকী আক্তার।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা আরাফাত হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকে ওই তরুণীর পরিচয় হয় ২০২৪ সালে। আরাফাত ফেসবুকে ওই তরুণীকে বিভিন্ন ধরনের ইসলামিক বিষয় ও হাদিস পাঠাতেন।
পরিচয়ের একপর্যায়ে আরাফাত তরুণীকে শহরের একটি হোটেলে দেখা করতে বলেন। সেখানে আরাফাত কৌশলে তরুণীর অজান্তে তার নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন।
ঘটনার এখানেই শেষ নয়। গত ২৮ ডিসেম্বর আরাফাত তার কথিত বোন লাকী আক্তারের বাসায় তরুণীকে নিয়ে যান। সেখানে লাকী আক্তার আরাফাতের সঙ্গে তরুণীর বিয়ের কথা বলেন। পরে লাকী তাদের একাকী একটি কক্ষে বসিয়ে রেখে চলে যান।
সেই সুযোগে আরাফাত তার মোবাইলে ধারণ করা তরুণীর নগ্ন ভিডিও দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। তরুণী রাজি না হলে আরাফাত ও লাকী আক্তার তাকে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকিও দেওয়া হয়।
এরপর গত ৪ আগস্ট আরাফাত ও লাকী আবারও ওই তরুণীকে তাদের ভাড়া বাসায় ডেকে নেন। তারা বিয়ের প্রলোভন ও ধারণ করা ভিডিও ডিলিট করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। তরুণী টাকা দিতে রাজি না হয়ে পুলিশকে ফোন করতে চাইলে আরাফাত তাকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করেন।
ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের শিকার হওয়ায় ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি আরাফাতকে জানালে তিনি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানাবেন বলে জানান। এরপর গত ৯ আগস্ট আরাফাত তার পরিবার তরুণীকে দেখতে চায় বলে নিজেদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
সেখানে আরাফাতের পরিবারের সদস্যরা তরুণীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন এবং তাকে আরাফাতের স্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপর তারা তরুণীকে কিছু খাবার খাওয়ান এবং আরাফাত তাকে নিজের বাড়িতে পৌঁছে দেন।
বাড়িতে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর তরুণীর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। ১০ আগস্ট মির্জাপুরের একটি আধুনিক হাসপাতালে ডাক্তার দেখালে জানা যায় যে গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট হয়ে গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই ২ সেপ্টেম্বর তরুণী পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত আরাফাত হোসেন ও তার বাবা ফরহাদ মোল্লার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মির্জাপুর থানার ওসি মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।