গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও অডিট রিপোর্ট বিশ্লেষণে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা কেবল অনিয়ম নয়, বরং একটি সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের ভয়াবহ নজির।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ই/এম বিভাগ-৮ এ সরকারি মালিকানাধীন মাত্র দুটি গাড়ি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। অথচ সরকারি নথিতে নিয়মিতভাবে ৩১ জন চালকের বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে। শুধু এই একটি খাতেই বছরে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে এসব তথাকথিত চালকের কোনো বাস্তব উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ নামই কাগজে-কলমে সৃষ্টি করা। অর্থাৎ, ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির চক্র। এখানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খানের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারী, হিসাব শাখা এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ ম্যানেজ করেই এই লুটপাট চলছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত একাধিক অডিট রিপোর্টে এসব আর্থিক অসঙ্গতি, অযৌক্তিক ব্যয় ও নথিভিত্তিক গরমিল স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবুও রহস্যজনক কারণে এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এই দুর্নীতির ছাতাটি কারা ধরে রেখেছে? কেন বারবার অডিট আপত্তি উপেক্ষা করা হচ্ছে? এবং কার স্বার্থে এই লুটপাট ব্যবস্থা বহাল রয়েছে?
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঢাকা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর খান বলেন, আমি কোনো দুর্নীতি করি না। আমার কোনো সম্পদ নাই। আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ ভুয়া।
এ বিষয় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভুয়া চালক সাজিয়ে যদি বেতনের টাকা উত্তলন করেন। সেটাও দুর্নীতির মধ্যে পরে। এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দেওয়া উচিত।
-JB