প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ২, ২০২৬, ১১:৫২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৫, ১:৫১ অপরাহ্ণ
গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুলের সম্পদের পাহাড়

পর্ব-১
আতিকুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ২০০৫ সালে বিএসসি সিভিল শেষ করেন তিনি। বিসিএস পাবলিক সার্ভিস ক্যাডার ২৭ ব্যাচে উত্তীর্ণ হয়ে চাকুরীতে যোগদান করেন। ২০০৮ সালে সহকারী প্রকৌশলী ২০১০ সাল থেকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন আতিকুল ইসলাম।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পদোন্নতি পেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা-১ এ যোগদানের পর ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত একই পদে ছিলেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। তারও আগে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে দুই দফায় দুই উপবিভাগে দায়িত্ব পালন করেন দীর্ঘদিন।
মাঝে ঢাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের রক্ষনাবেক্ষন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গণপূর্তের ঠিকাদারদের দাবি প্রভাবশালী মহলের আস্থাভাজন নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম টেন্ডার সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতা বলে ঘুরেফিরে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলের দায়িত্ব পান বারবার।
অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারের আস্থাভাজন হিসেবে টেন্ডার, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের সকল কাজই নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম সমন্বয় করে থাকেন। প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার খরচের জায়গা না থাকার পরও অনেকটা রহস্যজনক ভাবে এই প্রকৌশলীকে ২১ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দেওয়ায় বেশ সমালোচনা দেখা দিয়েছিল অধিদপ্তরে।
দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আয় করেছেন শত কোটি টাকা। হয়েছেন বিপুল সম্পদের মালিক। অভিযোগ আছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের রক্ষনাবেক্ষন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে বিভিন্ন ঠিকাদারের নিকট হতে অধিক পরিমাণ উৎকোচ গ্রহণ করে অনুমোদিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা হতে ৩ বছরে তিনি প্রায় ৬০ কোটি টাকার অতিরিক্ত দরপত্র আহবান করে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ বদলী হয়ে চলে যান। এই অতিরিক্ত ৬০ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করে সুকৌশলে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।
একই সময় রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় কয়েকটি পরিত্যক্ত বাড়ি ও তিনটি ভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম। খরচ করার জায়গা না থাকলেও অর্থবছরে ১২০টি কাজের বিপরীতে রহস্যজনকভাবে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন এই প্রকৌশলী। তা তখন নানা সমালোচনা জন্ম দেয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সে সময় নিন্মমানের কাজ ও কাজ থেকে অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ তখনকার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়। মন্ত্রীকে টাকা দিয়ে সেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়। ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) এর বহুতলবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য একটি কমিটি করা হয়, এমন নজির আগে দেখাও যায়নি। শুধু মাত্র কমিশন বাণিজ্যই ছিল সে কমিটির মূল কাজ। কমিটির অনুমোদন নেওয়ার নামে মতিঝিল গণপূর্ত বিভাগ থেকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ এ হস্তান্তরে দুই বিভাগের মধ্যে ৫ কোটি টাকার অনুমোদন ফি নেওয়া হয়।
অবৈধ অর্থ দিয়ে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় নামে বেনামে ক্রয় করেছেন ১৪/১৫টি প্লট ও প্ল্যাট। ময়ময়সিংহে ২৫ বিঘা জমির ওপর মাছের খামার গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
আতিকুল ইসলামের দুর্নীতির আরো বিস্তারিত থাকছে দ্বিতীয় পর্বে...
##
Copyright © 2026 মানব বার্তা. All rights reserved.